মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

  • ০১। বরেণ্য অভিনেতা খান আতাউর রাহমান
  • ০২। কণ্ঠ শিল্পী নিনা হামিদ
  • ০৩। কণ্ঠ শিল্পী মমতাজ বেগম
  • ০৪। প্রয়াত শিল্পপতি শামসুল ইসলাম খান নয়া্মিয়া
  • ০৫। মোহাম্মদ মোহর আলী, প্রাক্তন সিঙ্গাইর উপজিলা শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক

 

 

প্রথম শহীদ

রফিক উদ্দিন আহমদ
জন্মঃ ৩০ অক্টোবর ১৯২৬
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার পারিল গ্রাম
মৃত্যুঃ ২১ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২
পিতাঃ আব্দুল লতিফ
মাতাঃ রাফিজা খাতুনশিক্ষা জ্ঞান আর বিপ্লবের অগ্নিমন্ত্রে উদ্দীপ্ত পারিলে ১৯২৬ সালের ৩০ অক্টোবর জন্মগ্রহন করেন ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ। রফিকের দাদার নাম মোঃ মকিম মোঃ মকিমের ঘরে জন্ম নেন জরিপ উদ্দিন,তরিপ উদ্দিন,ওয়াসিম উদ্দিন,আব্দুল লতিফ এই আব্দুল লতিফই রফিকের  গর্বিত পিতা। মা রাফিজা খাতুন এদের ঘর আলো করে জন্ম নেন রফিক উদ্দিন আহমদ ,আব্দুর রশিদ ,আব্দুল খালেক ,আব্দুস সালাম , খোরশেদ আলম ,আলেয়া বেগম , জাহানারা বেগম।  বাল্যকাল থেকেই রফিক ছিলেন চঞ্চল প্রাণোচ্ছল প্রাণোচ্ছলতার শিল্পীত প্রকাশও ঘটেছিল কৈশর বয়সেই। সুঁই-সুতায় নকশা আঁকায় হাত পেকে ছিল বেশ। রফিকের দূরন্তপনার মূখ্য বিষয় ছিল গাছে চড়া আর গাছে চড়তে গিয়েই একবার তার পা ভাঙে। চিকিৎসার জন্য সে সময় তাকে কলকাতা পর্যন্তও পাঠানো হয়েছিল চঞ্চল রফিকের ভবিষ্যত ভেবে তার বাবা তাঁকে কলিকাতার মিত্র ইন্সটিটিউটে ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্তু সেখানে তাঁর মন টেকেনি। কবছর পর ফিরে আসেন দেশে। ভর্তি করিয়ে দেয়া হয় সিংগাইরের বায়রা হাই স্কুলে। স্কুল থেকেই ম্যাট্রিক পাশ করেন তিনি

পারিল গ্রামটি খুব সুন্দর সবুজ ফসলী একটি গ্রাম, যে গ্রামে সারা বৎসর ধান, পাট ও সবজির আবাদ হয়। ভাষা শহীদ রফিক পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে বড় ছিলেন। অন্য ভাইদের নাম রশিদ, মুক্তিযোদ্ধা খালেক, সালাম ও খোরশেদ আলম। শহীদ রফিক তার বাড়ী থেকে ৭ মাইল দুরে অবস্থিত বায়রা উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৪৯ সালে ম্যাট্রিকুলেশ পাশ করেন। পরে মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হন। বাবার প্রিন্টিং ব্যবসা দেখা শুনার জন্য পরবর্তীতে তিনি ঢাকায় চলে আসেন।


চিত্রঃ-শহীদ রফিকের গ্রামের বাড়ী।

শহীদ রফিক একই গ্রামের মেয়ে রাহেলা খাতুন পানুকে ভালবাসতো। পারিবারিক ভাবে তাদের এই ভালবাসাকে মেনে নিয়ে পরিবার থেকে বিয়ের দিনক্ষন ঠিক করা হয়। সেই উপলক্ষ্যেই বিয়ের বাজার করার জন্য তিনি ঢাকায় যান। ২১শে ফেব্রুয়ারী বিয়ের শাড়ী-গহনা ও কসমেটিকস নিয়ে সন্ধ্যায় তাঁর বাড়ী ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই মহান ব্যক্তি যখন শুনতে পেলেন বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার দাবীতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সামনে থেকে মিছিল বের হবে তখন তিনি ছুটে যান এই মিছিলে। তৎকালিন সরকার কর্তৃক আরোপিত ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে ১৯৫২ এর ২১ ফেব্রুয়ারী ছাত্র জনতার সাথে তিনিও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহন করেন। তখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের হোষ্টেল প্রাঙ্গন ও মিছিলের পদভারে প্রকম্পিত পুরো রাজপথ। এ অবস্থা দেখে পাকিস্তান সরকার দিশেহারা হয়ে উঠে। ফলে র্নিবিচারে ছাত্র জনতার উপর গুলি বর্ষন শুরু হয়। একটি গুলি রফিক উদ্দিনের মাথায় বিদ্ধ হয়ে মাথা ঝাঝরা হয়ে যায় ঘটনাস্থলেই রফিক শহীদ হন।


ছবি:-১ মাথায় গুলিবিদ্ধ শহীদ রফিক।


ছবি:-২ গুলিবিদ্ধ শহীদ রফিক।

শহীদ রফিকই সম্ভবত পৃথিবীতে ভাষার জন্য প্রথম শহীদের মর্যাদা লাভ করেন। তবে পাকিস্তানী হায়েনেরা তাকে মেরেই ক্ষান্ত হয়নি ঢাকা মেডিক্যাল থেকে তার লাশ লুকিয়ে ফেলে এবং জনরোষের ভয়ে পরদিন সেনাদের সহযোগীতায় আজিমপুর কবরস্থানে শহীদ রফিককে দাফন করা হয়। কিন্তু তাঁর কবরের কোন চিহ্ন রাখা হয়নি। ফলে আজিমপুর কবরস্থানে হাজারো কবরের মাঝে ভাষা শহীদ রফিকের কবরটি অচিহ্নিত থেকে গেল। এই মহান লোকটি নিজের ভালবাসার মানুষকে ফেলে, নতুন জীবনের সমস্ত আশাকে বিলিয়ে দিয়ে তিনি আমাদের মায়ের মুখের ভাষাকে ফিরিয়ে দিয়ে গেলেন। শহীদ রফিক আর কোন দিন তার ভালবাসার “পারিল” গ্রামে ফিরে যেতে পারেনি। তিনি ঢাকার বুকেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়ে রইলেন হাজারো কবরের ভীড়ে। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বাংলাদেশ সরকার শহীদ রফিককে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করেন। এবং সরকারী ভাবে ২০০৬ সালে তারঁ “পারিল” গ্রামে ভাষা শহীদ পাঠাগার ও স্মৃতি যাদুঘর স্থাপন করা হয় শহীদ রফিকের নামে।


চিত্রঃ- রফিক স্মৃতি যাদুঘর।

যেখানে তার ব্যবহৃত জিনিষপত্র ও প্রচুর বই আছে। তারও আগে প্রশিকার উদ্দ্যোগে তারঁ বাড়ী সংলগ্ন একটি ছোট লাইব্রেরী গঠন করা হয়। যেখানে মূলত উনার স্মৃতি গুলো প্রথম থেকে সংরক্ষন করার ব্যবস্থা করা হয়।


@ ঢাকার আজিমপুর এই পুরানো কবরস্থানের হাজারো কবরে ভীড়ে মহান ভাষা শহীদ রফিক উদ্দিন আহমেদ চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন যার কবরের চিহ্ন পাকিস্তানী সরকার রাখেনি@

 

 

০২। অনীল চন্দ্র রায় ও লীলাবতী রায় যিনি বায়রা ইউনিয়নে ১৯৪০ সালে বায়রা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন।

০৩। মোঃ আজাহার উদ্দিন মানিকগঞ্জের শত মানিক বইটি লিখে সবার গুণিজনে পরিণত হয়েছেন।